News Desk.

প্রথায় আছে মা-দুর্গার মূর্তি গড়তে পতিতালয়ের মাটি আনতে হয়, তবে পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়া মহিলারা কখনই সমাজের মূল স্রোতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান না। শিলচর শহরের নাগাপট্টি সংলগ্ন পতিতালয়ে প্রায় ২০০ যৌনকর্মী এনআরসি থেকে বঞ্চিত হলেন, কারণ তারা পরিবারের লিগ্যাসির অংশ নন। যৌনকর্মীদের সঙ্গে পরিবার কোনও নথি বা লিগেসি ভাগ করবে না, তাই তাঁরা এনআরসিছুট। হয়তো আগামীতে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার মতোও পর্যাপ্ত নথি তারা দেখাতে পারবেন না, ফলে শেষমেশ ঠাঁই হতে পারে গোয়ালপাড়ার বিদেশি আটক শিবিরে।

 

 

কলকাতার সোনাগাছি এলাকায় যারা কাজ করেন তাদের ভোটার আইডি কার্ড আধার কার্ড ইত্যাদি তো রয়েছেই পাশাপাশি নিজেদের ইউনিয়ন রয়েছে। নিজেদের কথাগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরার মতো একটি মাধ্যম অবশ্যই প্রত্যেক ব্যক্তির থাকা উচিত। যারা এনআরসিছুট, তাদের সঙ্গে কি ব্যবহার করা হবে এটা আমরা জানি না। সাধারণ মানুষ, যাদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় নেই, তারা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে গিয়ে মামলা করে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করানো কথাই ভাবছেন। তবে এই পতিতালয়ে বাস করা মহিলারা এই কাজটিও হয়তো করতে পারবেন না, কারণ তাদের বেশিরভাগের কাছেই পর্যাপ্ত নথি নেই। তবে কি শেষমেষ তাদের ঠাঁই হবে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্পে বা সরকারি কারাগারে? এটা ভবিষ্যতই বলে দিতে পারে।

 

এনআরসি থেকে ভারতীয় নাগরিকের নাম থেকে বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের তরফে প্রথম সরব হয়েছিলেন শিলচরের সাংসদ রাজদীপ রায়। তারপর একে একে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সহ অনেকেই মুখ খোলেন।

“প্রায় ১৮০০ কোটি টাকা খরচ করেও একটি শুদ্ধ এনআরসি বানানো গেল না শুধুমাত্র এক ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতার জন্য। ‌আসল ভারতীয়রা এনআরসি থেকে বাদ পড়ে আদালতে গিয়েই যদি নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করবেন, তাই এই প্রক্রিয়ার কোনও মানে ছিল না। হাজেলা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারা অনুমোদিত তাই তার বিরুদ্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না। তবে ভারতবর্ষ গণতান্ত্রিক দেশ এবং আমরা প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবো”। এভাবে হুমকির সুরে এনআরসি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন শিলচরের সাংসদ রাজদীপ রায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here